সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন




সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলে আড়িপাতা প্রযুক্তির রপ্তানি বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১
  • ১৪৫ Time View

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের অস্ত্র বিক্রি কমেছে। কিন্তু আড়ি পাতা প্রযুক্তির রপ্তানি বেড়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে বিরোধী মতকে নির্মমভাবে দমনের অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে হংকং বিক্ষোভে চীনের বিরুদ্ধে গণহারে ইসরায়েলি আড়ি পাতার প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মীরা। চীন ছাড়াও মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়া দেশগুলোতে ইসরায়েল আড়ি পাতার বা নজরদারির প্রযুক্তি বিক্রি করছে। সম্প্রতি আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশ ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা নজরদারি সরঞ্জাম কিনেছে। বাংলাদেশ অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গণনজরদারি প্রযুক্তির রপ্তানি বন্ধে তেল আবিবের আদালতে মামলাও করেছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকারকর্মীরা বিরোধিতা করলেও ইসরায়েলের স্পাইওয়্যার কূটনীতির সাফল্যের কথা না বললেই নয়। গোটা আরব বিশ্বকে নজরদারির প্রযুক্তি সরবরাহ করে পুরোপুরি কবজা করেছে ইসরায়েল। একসময় আরবের বিভিন্ন দেশ সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার আড়ি পাতার প্রযুক্তি ব্যবহার করত। গত দুই দশকে রাশিয়ার প্রযুক্তিকে হটিয়ে ইসরায়েলের প্রযুক্তি জায়গা দখল করে নিয়েছে। ইসরায়েল নির্বিচারে এমন কিছু দেশকে নজরদারির প্রযুক্তি দিয়েছে, যাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এবং পরবর্তীকালে ওই সব দেশ হুটহাট করেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, নজরদারি প্রযুক্তির ফাঁদে ফেলে ওই সব দেশের সরকারকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করছে ইসরায়েল। ইসরায়েল এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করছে আক্ষরিক অর্থেই—স্বীকৃতি ও বাণিজ্য।

টাইমস অব ইসরায়েল গত বছরের জুন মাসে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইসরায়েলের অস্ত্র বিক্রি কমেছে এবং নজরদারির প্রযুক্তির বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী। ইসরায়েল ২০১৭ সালে ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং ২০১৮ সালে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে। ২০১৯ সালে বিক্রি হয় ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের। ইসরায়েলি অস্ত্রের বড় ক্রেতা হচ্ছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। এরা ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির ৪১ শতাংশ সংগ্রহ করে। ইউরোপ নেয় ২৬ শতাংশ। উত্তর আমেরিকা কেনে ২৫ শতাংশ অস্ত্র। আর আফ্রিকা ও ল্যাটিনরা ৪ শতাংশ অস্ত্র নেয়। ইসরায়েলের রপ্তানি করা অস্ত্রের মধ্যে ৭ শতাংশ হচ্ছে বিভিন্ন সাইবার ও ইন্টেলিজেন্স-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি।

আড়ি পাতার প্রযুক্তি বিক্রি করে ইসরায়েলের আয় কত বা খরিদ্দার কারা, তা বিস্তারিত জানায়নি টাইমস অব ইসরায়েল। কিন্তু সম্প্রতি হংকং বিক্ষোভে চীনের গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে গণহারে আন্দোলনকারীদের মুঠোফোন ও ই-মেইল হ্যাক করার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের গণহারে নির্যাতন ও ধরপাকড়ে ইসরায়েলের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে চীন। চীনের গোয়েন্দারা বিক্ষোভকারীদের মুঠোফোনের সিম হ্যাক, ট্র্যাক, ক্লোন ও ট্রেস করতে পারছে। ইতিমধ্যে কমপক্ষে চার হাজার বিক্ষোভকারীর মুঠোফোন হ্যাক করেছে চীনের গোয়েন্দারা। হংকং পুলিশ ইসরায়েলের সেলেব্রাইট (Cellebrite) কোম্পানির প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিক্ষুব্ধ জনতার মুঠোফোন নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল।

সাধারণত ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারির জন্য এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে। নিয়মিতই ফিলিস্তিনিদের ফোন ও ই-মেইল হ্যাক করা হয় ইসরায়েলের নিরাপত্তার কথা বলে। এবার ফিলিস্তিনিদের বাইরে অন্যরাও এ প্রযুক্তির শিকারে পরিণত হচ্ছে। দুটি কারণে ইসরায়েল আড়ি পাতার প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশে বিক্রি করছে। প্রথমটি অবশ্যই অর্থনৈতিক। অস্ত্র ব্যবসায় হ্রাসের কারণে প্রযুক্তি বিক্রি করে রপ্তানি আয় ধরে রাখা।




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category




© All rights reserved © 2020 faithnewsbd.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin