সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন




বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেই করোনাভাইরাসের টিকা এল দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১১৯ Time View

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকা পৌঁছে যাওয়ায় দ্রুতই দেশে টিকাদান শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট ২০ লাখ ডোজ টিকার এই চালান নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক টুইটে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দেয় ভারত, ‘ভ্যাকসিনমৈত্রী’ তারই নজির।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল টিকা বুঝে নিতে উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরে। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তারাও।

বিমানবন্দর থেকে দুটি ফ্রিজার ভ্যানে করে টিকার বাক্স নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে ইপিআই স্টোরেজে। ‘ভ্যাকসিনমৈত্রীর’ আকাশী রঙের ব্যানারে ঢাকা সেই ভ্যানের গায়ে আঁকা ছিল দুই দেশের পতাকা, লেখা ছিল- ‘ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহারস্বরূপ ভারতে উৎপাদিত ২০ লাখ ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, টিকার চালান বুঝে নিতে বিমানবন্দরে থাকবেন তিনি। তবে পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দরে যাচ্ছেন না মন্ত্রী।

“কাস্টমস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টিকা আনা হবে তেজগাঁওয়ে ইপিআই স্টোরেজে। সেখান থেকে কিছু টিকা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেওয়া হবে। সেখানে উপহার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।”

বাংলাদেশ সরকারিভাবেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুরুতে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে টিকাদান শুরুর পরিকল্পনা হলেও টিকা আগে পাওয়ায় প্রয়োগের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে টিকাদান উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও দেশে এ টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না হওয়ায় গণটিকাদান শুরু করার আগে এই সংক্ষিপ্ত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আবদুল মান্নান বলেন, “প্রথমদিন টিকা দেওয়ার পরদিন ড্রাই রান বা টেস্ট হিসেবে এই টিকা দেওয়া হবে। তারপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী এক সপ্তাহ অপেক্ষা করব। আমরা দেখব টিকা নেওয়ার পরে তাদের মধ্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কি না।”

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে সারাদেশে টিকা বিতরণ শুরু হবে। সরকারের কেনা টিকা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেবে সেরাম ইন্সটিটিউটের ডিস্ট্রিবিউটর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। আর ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া টিকা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় জেলা পর্যায়ে পৌঁছানো হবে।




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category




© All rights reserved © 2020 faithnewsbd.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin