সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন




কেলেঙ্কারির সীমানা এখন দেশ ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে

অপু ইসলাম
  • Update Time : বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৯১ Time View

কেলেঙ্কারির জন্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের নাম এখন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জনতা ব্যাংকের ‘জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আইএনসি’ নামে একটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি রয়েছে। সংক্ষেপে এটি ‘জেইসিআই, ইউএসএ’ নামে পরিচিত।

জেইসিআই, ইউএসএ থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৯৪৭ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে গেছে। প্রতি ডলার ৮৫ টাকা দরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় তা দাঁড়ায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। জেইসিআইয়ের সুস্মিতা তাবাসসুম নামের এক কর্মচারীকে সন্দেহ করছে জনতা ব্যাংক। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই সুস্মিতা তাবাসসুম জেইসিআইয়ে টেলিফোন অপারেটর কাম টেলার হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। তিনি এখন পলাতক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং জনতা ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চুরি হয়ে যাওয়া অর্থকে ‘মিসিং ফান্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছে জনতা ব্যাংক। জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, জেইসিআই, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ মাস ধরে চিঠি চালাচালি করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তবে জেইসিআই অর্থ উদ্ধারে নিউইয়র্কে মামলা করেছে, আইনজীবীও নিয়োগ করেছে।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ এ নিয়ে গত মাসে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। তবে অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। করোনার কারণে দেরি হচ্ছে।’

চিঠিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেইসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই যিনি অবসরে গেছেন। তাঁর অবসরে যাওয়ার পর জনতা ব্যাংক ঢাকা থেকে মাহবুবুর রহমান নামের একজনকে জেইসিআইয়ের নতুন সিইও প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়।

কিন্তু মাহবুবুর রহমানের ভিসা পেতে দেরি হচ্ছিল বলে জনতা ব্যাংক জেইসিআইয়ের টেলিফোন অপারেটর কাম টেলার সুস্মিতা তাবাসসুমকে কাজ চালিয়ে যেতে বলে।
জনতা ব্যাংক এখন বলছে, বিদায়ী সিইও নজরুল ইসলামও সুস্মিতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। গত বছরের ২৭ জুলাই থেকে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেইসিআইয়ের দায়িত্ব পালন করেন সুস্মিতা তাবাসসুম। এই ফাঁকেই অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে।

কিন্তু সুস্মিতা তাবাসসুম জনতা ব্যাংকের নিয়মিত বা স্থায়ী কর্মচারী নন। ব্যাংকের বাইরের একজন ব্যক্তিকে কেন এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, ‘এই জটিলতা হবে আমরা বুঝতে পারিনি।’ কে এই সুস্মিতা তাবাসসুম, এই প্রশ্নের কোনো জবাব নেই আব্দুছ ছালাম আজাদের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , ১৯৮২ সালে জন্ম নেওয়া সুস্মিতা তাবাসসুম ঢাকা বারের সদস্য। বারে থাকা সদস্যদের বিশদ বিবরণের তালিকা অনুযায়ী তিনি বারের ১৬ হাজার ৭৭ নম্বর সদস্য। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ঢাকার মোহাম্মদপুরের খিলজি রোডের একটি বাসা তাঁর বর্তমান ঠিকানা। বারে সংরক্ষিত তাঁর গ্রামীণফোনের ০১৭১৫ সিরিজের মোবাইল নম্বরে ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি উদ্‌ঘাটিত হয়েছে জেইসিআই, ইউএসএর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাহবুবুর রহমান যোগ দেওয়ার পর। তিনি যোগ দিয়েছেন চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি। যোগ দেওয়ার পরদিনই তিনি দেখতে পান জেইসিআইয়ের তহবিলে গরমিল।
মাহবুবুর রহমান প্রথম দিনই দেখতে পান শুরু থেকেই জেইসিআই লোকসানি প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালে এর আয় ছিল ৩ হাজার ৪৫ ডলার, ব্যয় ছিল ৫৪ হাজার ৯৫৭ ডলার। প্রতিবছর আয়ের তুলনায় ব্যয় হয়েছে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ জুন পর্যন্ত আয় ছিল ১০ হাজার ৫৪০ ডলার। আর ব্যয় ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৪৪০ ডলার।

মাহবুবুর রহমান গত ১৫ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দুই আলাদা ই-মেইল বার্তায় জনতা ব্যাংককে পুরো ঘটনার বিবরণ উল্লেখসহ জানান, জেইসিআইয়ের তহবিল থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৯৪৭ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে গেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জনতা ব্যাংককে বলে দিয়েছি।’

পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকেও চিঠি পাঠিয়েছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর আবার তাগিদপত্র দেওয়া হয় গভর্নরকে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে।




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category




© All rights reserved © 2020 faithnewsbd.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin